কাজল সেন
সুখে আছে তরুণিমা
ইদানীং তরুণিমার সঙ্গে প্রায়ই দেখা হয় শ্যামসুন্দরের। হয়তো তখন দুজনেই
কোথাও যাবার জন্য হন্তদন্ত হয়ে চলেছে অটোস্ট্যান্ডে। অথবা হয়তো রিফাইন তেলের
প্যাকেট কিনে শ্যামসুন্দর তার ঘরে ফিরছে, আর তরুণিমা ভ্রু প্লাক করতে যাচ্ছে কোনো
লেডিজ পার্লারে। তা দেখা হলেই কিছু কথা হয়। হয়তো, যতসব
অপ্রাসঙ্গিক এবং অসংলগ্ন কথা। কিন্তু! তবুও!
--“আজ বেশ ঠান্ডা পড়েছে, তাই না?” শ্যামসুন্দর
বলে।
--“হ্যাঁ, কাল মনে
হয় আরও জাঁকিয়ে পড়বে!” আর কোনো কথা খুঁজে না পেয়ে তরুণিমা বলে।
--“নাও পড়তে পারে, হয়তো
কাল হঠাৎ ঠান্ডা কমে গেল, গরম পড়ে গেল!”
--“তা যা বলেছো! তোমার অনুমান তো মাঝে মাঝে
ঠিকঠাক লেগেও যায়!”
--“তাই! তবে কী জানো তরু, এভাবে
সব কিছু এলোমেলো হয়ে গেলে তো খুব মুশকিল! তাই না?”
--“কেন? মুশকিল কেন?”
--“না, আমার ভালো লাগে না। সব কিছু গোছানো থাকবে, তবেই না
আনন্দ!”
--“না শ্যামসুন্দর, এটা ঠিক
কথা নয়। এলোমেলো হলো, তো কী হলো! যত এলোমেলো হবে ততই তো মজা হবে! সুখ
হবে। গতানুগতিকতা ও একঘেয়েমি কাটবে! না হলে তো সবাই আমরা অসুখে ভুগবো!”
শ্যামসুন্দরের ব্যস্ততা আছে। তেল পৌঁছলে মা রান্না চাপাবে। অথচ
তরুণিমাকে ছেড়ে যেতেও ইচ্ছে করে না। কী যে আছে এই মেয়েটির মধ্যে!
মনোরমা একদিন তরুণিমাকে বলল, “তুই মাঝে মাঝেই জঙ্গলে চলে যাস্। কী
ব্যাপার বল্ তো তরু! জঙ্গলে তোর কোনো প্রেমিক থাকে নাকি? তার
সঙ্গে দেখা করতে যাস্? তোরা জঙ্গলে অনেক কিছু করিস্, তাই না?”
তরুণিমা হাসে, “হ্যাঁ,
আছে তো! আমার প্রেমিক থাকে জঙ্গলে। আমরা তো মিলিত
হই!”
চোখ উলটে যায় মনোরমার,
“সে কী রে! আর কোথাও জায়গা পেলি না, একেবারে
জঙ্গলে?”
তরুণিমা কীভাবে মনোরমাকে বোঝাবে যে, তার প্রেমিক গাছেরা জঙ্গলেই যে পাকাপাকি ভাবে বসবাস করে! তাদের সঙ্গে
সহবাসের জন্য তাই তাকে জঙ্গলেই যেতে হয়। আর গাছেদের সঙ্গে সহবাসে কী যে সুখ, তাই বা
সে কেমন করে মনোরমাকে বোঝাবে! তরুণিমা জানে, মনোরমা তার ফিয়াসেঁ হরিহরের সঙ্গে
লাগামছাড়া মিলিত হয় নিজেদের বাড়িতেই। তা সেই সুখ নিয়েই থাকুক মনোরমা।
তরুণিমার তাতে কিছু যায় আসে না। কিন্তু তরুণিমার সুখ তো আর মনোরমার
কখনই সইবে না! শ্যামসুন্দরেরও সইবে না।
সত্যি সত্যিই, খুব সুখে আছে তরুণিমা।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন